অর্থনৈতিক শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ

অর্থনীতিতে উৎপাদন খাতের অবদান কমে ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ

২০২৪ সালে দেশে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬৪তে, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি।

২০২৪ সালে দেশে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬৪তে, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। এ হিসাবে ১১ বছরে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বেড়েছে ৪০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৯টি বা ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ। যদিও এক দশকে দেশের অর্থনীতিতে উৎপাদন খাতের অবদান ১১ দশমিক ৫৪ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর প্রতিবেদনে এ চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস সম্মেলন কক্ষে গতকাল শুমারির প্রাথমিক ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিকসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সভাপতি ড. কেএস মুর্শিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। বক্তব্য দেন প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক এসএম শাকিল আখতার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘গ্রাম ও শহরে উদ্যোক্তার অভাব নেই। এত উদ্যোক্তা যে চারদিকে শুধু উদ্যোক্তা দেখি। মনে হয় বাংলাদেশ উদ্যোক্তাদের দেশ। কিন্তু উদ্যোক্তাদের মূলধন নেই। তাদের অর্থায়ন করলে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

অর্থনৈতিক শুমারির প্রাথমিক হিসাব বলছে, গত ১০ বছরে উৎপাদন খাতে অর্থনৈতিক ইউনিটের (প্রতিষ্ঠান) সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অথচ ২০০১-০৩ সাল পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত শুমারির তুলনায় ২০১৩ সালের শুমারিতে এ খাতে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বেড়েছিল ১০০ দশমিক ৪২ শতাংশ।

সার্বিকভাবে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে বিবিএসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম প্রবৃদ্ধি হওয়ায় অর্থনৈতিক ইউনিটে এ খাতের অবদান ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটে উৎপাদন খাতের অবদান ছিল ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা ২০১৩ সালে ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশে নেমে আসে। এ হিসাবে টানা দুই শুমারিতেই কমেছে উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানের অবদান।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে ৩ কোটি ৭ লাখ ৬১ হাজার ৩৪ জন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ২ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ২৯৮ ও নারীর সংখ্যা ৫১ লাখ ২৮ হাজার ৬৭৭। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ২ হাজার ৫৯ জন।

এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে কর্মসংস্থান বেড়েছিল ১ কোটি ৩৩ লাখ। আর ২০১৩ সালে এসে মোট কর্মসংস্থান দাঁড়ায় ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০। সে হিসাবে গত ১০ বছরে নতুন কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ৬২ লাখ ৬০ হাজার ১৮৪।

আরও